শুভ বিবাহ
পিতৃপুরুষের আশীর্বাদ ও পরমেশ্বরের কৃপায় আমাদের দাম্পত্য জীবনের পুণ্য সূচনায় আপনাদের সাদর আমন্ত্রণ।
"শুক্রবার, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ"
কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়া আর কফি হাউসের নস্টালজিক আড্ডার মাঝে আমাদের শুরু। একটি বইয়ের পাতা উল্টানোর ছলে হওয়া প্রথম সংলাপ কখন যে একে অপরের মনের পাতা জুড়ে বসেছিল, তা আজ এক মধুর বিস্ময়।
গঙ্গার মৃদু হাওয়া আর প্রিন্সেপ ঘাটের আলো-আঁধারির মায়ায়, যখন বিদ্যাসাগর সেতু সাক্ষী ছিল নতুন এক অঙ্গীকারের, ঋত্বিক প্রশ্ন করেছিল অন্বেষাকে— জীবনের বাকি পথটা কি একসাথে চলা যায় না?
গুরুজনদের আর্শীবাদ, আর ধান্য-দুর্বার মাঙ্গলিক ছোঁয়ায় আমাদের চার হাত এক হওয়ার প্রথম পর্ব উদযাপিত হল। দুটি ভিন্ন ধারা এসে মিশে গেল এক অভিন্ন ভালোবাসার মোহনায়।
আজ আমরা দাঁড়িয়ে জীবনের এক নতুন দ্বারে। যেখানে আমাদের চলার পথ হবে এক সুরের বাঁধনে বাঁধা— যেখানে প্রতিটি সুখ-দুঃখ ভাগ করে আমরা পাড়ি দেব আগামী দিনগুলোর দিকে।
পরিবারের প্রবীণ সদস্য ও গুরুজনদের উপস্থিতিতে কনে এবং বরকে ধান্য-দুর্বা ও মাঙ্গলিক উপহার দিয়ে আশীর্বাদ করা হবে।
পারিবারিক আবহে ঐতিহ্যবাহী নানা বাঙালি পদের সমাহারে কনে ও বরের শেষ অবিবাহিত ভোজের পরম আনন্দময় মুহূর্ত।
বিয়ের দিন ভোরে সূর্যোদয়ের আগে বর ও কনেকে দই, চিঁড়ে ও মিষ্টি খাওয়ানোর মাধ্যমে দিনভর উপবাসের সূচনা।
বরযাত্রী থেকে পাঠানো সুগন্ধী কাঁচা হলুদের প্রলেপে কনেকে স্নান করানো এবং আবির ও মধুর আনন্দময় উৎসব।
সানাই ও ঢাকের সুরে বরযাত্রীদের নিয়ে বরের রাজকীয় আগমন এবং গেটে শাশুড়ি মায়ের বরণডালা নিয়ে শ্রী ও আরতি বরণ।
পিঁড়িতে বসে ভাইয়ের কাঁধে চড়ে বরের চারপাশে সাতপাক আবর্তন এবং পানপাতা সরিয়ে দুজনের প্রথম শুভদৃষ্টির পরম লগ্ন।
পরিবারের লোকজনের কাঁধে চড়ে আনন্দের হাসির মাঝে মালাবদল করে একে অপরকে আপন করে নেওয়া।
কন্যার পিতা কর্তৃক বরের হাতে কন্যার হস্তার্পণের মধ্য দিয়ে বৈদিক বন্ধনের সূচনা।
পবিত্র হোম কুণ্ডের চারপাশে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও খইয়ের অঞ্জলি দিয়ে অগ্নিকে সাক্ষী রেখে চিরস্থায়ী প্রতিজ্ঞা।
বরের হাতে কনের সিঁথিতে রাঙা সিঁদুরের প্রলেপ এবং লজ্জাবস্ত্র বা নতুন লাল শাড়ির ঘোমটা পরিয়ে দেওয়ার উৎসব।
পরের দিন সকালে বধূবরণ ও বিবাহ সম্পূর্ণ হওয়ার পর নানা মাঙ্গলিক পারিবারিক খেলার মিষ্টি আয়োজন।
মুঠো মুঠো চাল মায়ের আঁচলে ঢেলে দিয়ে পৈতৃক ঋণ শোধ করে চিরচেনা পরিবেশ ছেড়ে নতুন উদ্দেশ্যে যাত্রা।
ভাত-কাপড় দানের পবিত্র অঙ্গীকার শেষে বরের পরিবারের উদ্যোগে সকল আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথে রাজকীয় প্রীতিভোজ।
৩৬আর, রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিট, শোভাবাজার, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ — ৭০০০০৫
নির্দেশিকা ও বার্তা
উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী শোভাবাজার সুতানুটি মেট্রো স্টেশন থেকে মাত্র ৫ মিনিটের হাঁটা পথ। রাজবাড়ি তোরণের সামনে গাড়ির পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা রয়েছে।
"উত্তর কলকাতার এক ঐতিহ্যবাহী ও সংস্কৃতিবান পরিবার, অন্বেষাকে ঘরের বউ রূপে আদর ও স্নেহে বরণ করে নিতে সাগ্রহে অপেক্ষারত।"
"শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও উচ্চ শিক্ষায় দীক্ষিত পরিবার, স্নেহের অন্বেষার জীবনের এই মঙ্গলময় নতুন অধ্যায়ের সূচনায় আশীর্বাদ কামনায় রত।"